বানরকে রজমের হাদিসের ব্যাখ্যা

আলিয়া মাদ্রাসার প্রোডাক্ট হাদীস অস্বীকারকারী জামআতি সেলিব্রেটি মোজাম্মেল হক অনেক দিন আগে নাস্তিকদের থেকে ধার করা একটা যুক্তি নিয়ে এসেছেন, তবে উদ্দেশ্য হাদীসকে প্রশ্নবিদ্ধ করে মন মত ফাতওয়া দেয়ার পথ সুগম করা। হাদিসটি নিম্নরূপ-
নুয়া‘ঈম ইবনে হাম্মাদ (রাহঃ) .... আমর ইবনে মাইমুন (রহ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি, জাহিলীয়্যাতের যুগে দেখেছি, একটি বানর ব্যভিচারে লিপ্ত হওয়ার কারণে অনেকগুলো বানর একত্রিত হয়ে প্রস্তর নিক্ষেপে তাকে হত্যা করল। আমিও তাদের সাথে প্রস্তর নিক্ষেপ করলাম। —সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৩৫৭০ (আন্তর্জাতিক নং ৩৮৪৯)
ইবনে হাযার রাহ: স্পষ্ট করেছেন, এটা একজন তাবিয়ী-র ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা, শরীয়তের সাথে এর কোন সম্পর্ক নেই[i]। কারণ শরীয়ত মানুষ ও জ্বীনদের জন্য। তবে ১৮ দশ শতাব্দী পর্যন্ত আদর্শের মানদণ্ড পশ্চিমা দেশগুলোতে পশুপাখিকেও আদালতে সাজা দেয়া হত।[ii] প্রশ্ন হল, তিনি কি মিথ্যা বলেছেন? কারণ মোজাম্মেল সাহেবের উদ্দেশ্য এটা প্রমাণ করা যে, রাসূলের সাহাবী, সালফে-সালেহীন, আকাবির, বুযুর্গবৃন্দ ভণ্ড-মিথ্যুক ছিলেন। এভাবে প্রকৃত ইসলাম কিংবা ১৪০০ বছরে ইসলাম কতটুকু সংরক্ষিত হয়েছে- তা নিয়ে সন্দেহ সৃষ্টি করা। পাশাপাশি জামায়াতের কিছু সাথীর পুরাতন রোগ- সাহাবী বিদ্বেষকে বৈধতা দেয়া। সর্বোপরি, নিজেকে বিজ্ঞ, বিচক্ষণ, আধুনিক ও নির্ভরযোগ্য প্রমাণ করা; আর সাধারণ মোল্লাদের অশিক্ষিত, ভণ্ড, ধর্ম ব্যবসায়ী প্রমাণ করা। হয়তো হাবিল-কাবিলের কাকের ঘটনার ন্যায় আল্লাহর পক্ষ থেকে তাকে কোন নিদর্শন দেখানো হয়েছে। সেক্ষেত্রে তাবিয়ীদের ব্যাপারে আমভাবে আপত্তি তোলার চেষ্টাও ব্যর্থ হল।
এই হাদিসের অনেক ব্যাখ্যা আছে। যেমনঃ ইমাম কুরতুবী রাহ: উল্লেখ করেছেন, আল হুমাইদী-র মতে, 'বানরটি যিনা করেছে' শব্দগুলো সহিহ বুখারীর অনেক নুসখায় নেই। এমনকি ইমাম বুখারীর অন্যান্য কিতাবেও (যেমন: তারীখুল কাবীর) এই শব্দগুলো ছাড়া বর্ণিত হয়েছে।[iii] ইবনে কুতাইবাহ রাহ: বলেছেন যে, আসলেও যিনা করেছে কিনা তা বুঝিয়ে বলার ভাষা বানরের জানা নেই।[iv] ইবনে আব্দুল বার রাহ: বলেছেন, এটা বানরের সুরত ধারী জ্বীনদের ঘটনা। [v] ইবনে হাযার ও ইবনে কুতাইবাহ-র বিস্তারিত আলোচনা এখানে পাবেন। ইমাম ইবনে তাইমিয়া রাহ: একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ যুক্ত করেছেন যা নাস্তিকরা ও মোজাম্মেল সাহেব শুনতে চান। ইবনে তাইমিয়া লিখেছেন, এটি এমন কিছু যা লোকেরা আমাদের সময়ে বানর ছাড়া অন্য প্রাণীদের সাথে, এমনকি পাখির মধ্যেও প্রত্যক্ষ করা গেছে।[vi]
ইবনে তাইমিয়া রাহ: হাদিসের কোন অংশের কথা বুঝিয়েছেন বলা মুশকিল। কথাকে কোন ভিত দেয়া যায় কিনা। সম্ভবত সবচেয়ে বেফাস ব্যাখ্যা তিনিই দিয়েছেন। তবে মজার ব্যাপার হল, পাখিদের মাঝে এমন বিবাহ সুলভ আচরণ দেখা যায়। যেমনঃ এলবাট্রোস পাখি বিবাহের ন্যায় courtship dance করে।
Beaver, seahorse, বানর জাতীয় Gibbon এরকম নিউক্লিয়ার পরিবারের ন্যায় আচরণ করে।[vii]
বানর সদৃশ প্রাণীগুলো সঙ্গিনী-র পরকীয়া টের পেলে ভূমিষ্ঠ শিশুদের হত্যা করে।[viii]
হাদিসে যেভাবে শাস্তির কথা উল্লেখ আছে, এমন সুসংগঠিত বিচার ব্যবস্থা প্রাণীজগতে দেখা যায় না। এটা একটা বিরল কাকতালীয় ঘটনা-ই হবে। শিম্পাঞ্জিদের মাঝে কিছুটা পুলিশ জাতীয় শ্রেণী থাকে যারা দলের খাবার চুরি হলে শাস্তি দেয়ার কাজ করে। আবার এই পুলিশ বাহিনী মানুষের মত স্বজনপ্রীতি ও ঘুষও গ্রহণ করে।[ix]
কিন্তু অনেক প্রাণীর মাঝে violent behavior আছে। যেহেতু উক্ত তাবেয়ী নিজেও বানরদের ভাষা বুঝেন না। সেহেতু ঘটনাকে প্রাণীজগতের স্বাভাবিক সহিংসতা হিসাবেও দেখা যায়। যেমনঃ কোন পিপড়া কাজে ফাকি দিলে তাকে বাকিরা মেরে ফেলতে পারে।
আর শিম্পাঞ্জিদের মাঝে হত্যার ন্যায় কাজ জীবজগতের অন্যান্য প্রজাতি থেকে বেশি। ২% শিম্পাঞ্জির মৃত্যু সহিংসতার কারণে হয়।[x]
https://www.youtube.com/watch?v=MQIzwIM5eqQ
শাইখ আলবানী রাহ:-র তাহক্বীক ও শিয়াদের আপত্তির জবাব নিয়ে এই সাইটে আরও তথ্য পাবেন ইনশাআল্লাহ।
[i]]فتح الباري : هذه الرواية ـ كما هو ظاهر ـ ليست من كلام النبي صلى الله عليه وسلم ، ولا كلام أحد من أصحابه رضي الله عنهم ، وإنما رواها البخاري رحمه الله حكاية عما شاهده عمرو بن ميمون:
[ii] https://www.gutenberg.org/files/43286/43286-h/43286-h.htm
[iii] الجامع لأحكام القرآن :
فبحثنا عن ذلك فوجدناه في بعض النسخ لا في كلها ، فذكر في كتاب ” أيام الجاهلية ” .
وليس في رواية النعيمي عن الفربري أصلا شيء من هذا الخبر في القردة ، ولعلها من المقحمات في كتابالبخاري . والذي قال البخاري في التاريخ الكبير : قال لي نعيم بن حماد أخبرنا هشيم عن أبي بلج وحصينعن عمرو بن ميمون قال : رأيت في الجاهلية قردة اجتمع عليها قرود فرجموها فرجمتها معهم . وليس فيه ” قد زنت
[iv]]تأويل مختلف الحديث باب رجم قردة في زنا page 372 print دار الإشراق :
ونحن نقول في جواب هذا الاستهزاء : إن حديث القرود ليس عن رسول الله صلى الله عليه وسلم ، ولا عن أصحابه ، وإنما هو شيء ذكر عن عمرو بن ميمون … وقد يمكن أن يكون رأى القرود ترجم قردة فظن أنها ترجمها لأنها زنت ، وهذا لا يعلمه أحد إلا ظنا ؛ لأن القرود لا تنبئ عن أنفسها
[v]]الاستيعاب في معرفة الأصحاب page 507 under the biography of عمرو بن ميمون biography number 1817 print دار الأعلام :
وهذا عند جماعة أهل العلم منكر إضافة الزنى إلى غير مكلف ، وإقامة الحدود في البهائم . ولو صح لكانوا من الجن ؛ لأن العبادات في الإنس والجن دون غيرهما
[vi] مجموع الفتاوى volume 11 page 296 print دار الوفاء
[vii] https://journeys.dartmouth.edu/anth50-marriage/marriage-from-a-biological-lens/pair-bonding-in-the-animal-kingdom/
[viii] https://scienceinfo.net/the-adultery-of-animals.html
[ix] https://indianexpress.com/article/lifestyle/pets-animals/7-animal-species-that-punish-rule-breakers-10449083/
[x] https://www.nationalgeographic.com/science/article/human-violence-evolution-animals-nature-science
মন্তব্য