সমকামিতা কেন হয়? — বিজ্ঞান কী জানে, কী জানে না

সমকামিতা কেন হয়? — বিজ্ঞান কী জানে, কী জানে না
ভূমিকা
সমকামিতা (Homosexuality) নিয়ে বর্তমান বিশ্বের অন্যতম বড় বিতর্ক হলো—এটি কি সম্পূর্ণ জন্মগত, নাকি পরিবেশগত, নাকি উভয়ের সম্মিলিত ফল? এ প্রশ্নের উত্তর নিয়ে কয়েক দশক ধরে জীববিজ্ঞান, মনোবিজ্ঞান, স্নায়ুবিজ্ঞান ও জেনেটিক্সে অসংখ্য গবেষণা হয়েছে। কিন্তু একটি বিষয় শুরুতেই পরিষ্কার করে বলা দরকার—২০২৬ সাল পর্যন্ত এমন কোনো একক বৈজ্ঞানিক তত্ত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়নি, যা সব মানুষের ক্ষেত্রে সমকামিতার কারণ নিশ্চিতভাবে ব্যাখ্যা করতে পারে।
দুঃখজনকভাবে জনপরিসরে বিষয়টি প্রায়ই এমনভাবে উপস্থাপন করা হয় যেন বিজ্ঞান ইতোমধ্যে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দিয়ে ফেলেছে। বাস্তবে চিত্রটি অনেক বেশি জটিল।
সমকামিতার কি একটি নির্দিষ্ট জৈবিক কারণ আছে?
দীর্ঘদিন ধরে গবেষকরা ধারণা করেছিলেন যে হয়তো কোনো নির্দিষ্ট "গে-জিন", বিশেষ ধরনের হরমোন, অথবা মস্তিষ্কের নির্দিষ্ট গঠন সমকামিতার জন্য দায়ী। কিন্তু এখন পর্যন্ত এমন কোনো একক কারণ প্রতিষ্ঠিত হয়নি।
১৯৯০-এর দশকে Xq28-কে সম্ভাব্য "গে-জিন" হিসেবে আলোচনায় আনা হলেও পরবর্তী বৃহত্তর গবেষণাগুলো সেই দাবিকে নিশ্চিত করতে পারেনি। একইভাবে বৃহৎ Genome-Wide Association Studies (GWAS)-এও দেখা গেছে, কোনো একক জিন মানুষের যৌন অভিমুখিতা নির্ধারণ করে না। বরং গবেষকরা ধারণা করেন, বিভিন্ন ক্ষুদ্র জেনেটিক ও অ-জেনেটিক উপাদান মিলিতভাবে কিছু প্রভাব ফেলতে পারে, কিন্তু সেগুলোর প্রভাব সীমিত এবং পূর্বাভাস দেওয়ার মতো শক্তিশালী নয়।
যমজ (Twin) গবেষণাও একই ধরনের চিত্র দেখায়। অভিন্ন জিনগত গঠনের (identical twins) দুই ভাই বা দুই বোনের একজন সমকামী হলেও অন্যজন অনেক ক্ষেত্রেই সমকামী হন না। অর্থাৎ জিনগত মিল থাকলেও যৌন অভিমুখিতা সবসময় এক হয় না। এটি ইঙ্গিত করে যে বিষয়টি একক জেনেটিক ব্যাখ্যায় সীমাবদ্ধ নয়।
মস্তিষ্ক, হরমোন ও ফেরোমোন
মস্তিষ্কের কিছু অংশ, বিশেষ করে হাইপোথ্যালামাসের নির্দিষ্ট অঞ্চলের গঠন নিয়ে গবেষণা হয়েছে। কিছু গবেষণায় সমকামী ও বিষমকামী ব্যক্তিদের মধ্যে গড়পড়তা কিছু পার্থক্য দেখা গেলেও গবেষকরা এখনো এ বিষয়ে কারণ-ফল (causation) সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা করতে পারেননি। মস্তিষ্কের গঠন কোনো আচরণের কারণ, নাকি দীর্ঘমেয়াদি অভিজ্ঞতার ফল—এ প্রশ্নও এখনো পুরোপুরি নিষ্পত্তি হয়নি।
একইভাবে ফেরোমোন ও হরমোন নিয়ে প্রাথমিক কিছু গবেষণা আলোচনায় এলেও পরবর্তী গবেষণাগুলো বিষয়টিকে অনেক বেশি সতর্কতার সঙ্গে মূল্যায়ন করেছে। বর্তমানে মানুষের ক্ষেত্রে কোনো নির্দিষ্ট ফেরোমোনকে সমকামিতার কারণ হিসেবে বৈজ্ঞানিকভাবে প্রতিষ্ঠিত বলা যায় না।
তাহলে বিজ্ঞান কী বলে?
বর্তমান গবেষণার সারসংক্ষেপ হলো—সমকামিতার পেছনে একটি মাত্র কারণ নেই। জিনগত বৈশিষ্ট্য, ভ্রূণকালীন বিকাশ, ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা, পরিবেশ এবং অন্যান্য অজানা উপাদানের জটিল পারস্পরিক সম্পর্ক থাকতে পারে। তবে কোন উপাদানের ভূমিকা কতখানি, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত বৈজ্ঞানিক ঐকমত্য নেই।
অতএব "সমকামিতা সম্পূর্ণ জন্মগত"—যেমন নিশ্চিতভাবে বলা যায় না, তেমনি "সমকামিতা সম্পূর্ণ পরিবেশগত"—এ কথাও বর্তমান গবেষণার ভিত্তিতে নিশ্চিতভাবে বলা যায় না।
বিজ্ঞান, রাজনীতি ও জনমত
সমকামিতা নিয়ে আলোচনা কেবল বৈজ্ঞানিক নয়; এটি একই সঙ্গে সামাজিক, রাজনৈতিক ও নৈতিক প্রশ্নও। এ কারণে এই ক্ষেত্রের গবেষণা প্রায়ই তীব্র জনমত, নীতিনির্ধারণ এবং অধিকারভিত্তিক আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে মূল্যায়িত হয়।
১৯৭৩ সালে American Psychiatric Association তাদের রোগ নির্ণয়ের তালিকা থেকে সমকামিতাকে অপসারণ করে। এই সিদ্ধান্তের ইতিহাস নিয়ে আজও গবেষক ও ইতিহাসবিদদের মধ্যে আলোচনা রয়েছে। কেউ এটিকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হিসেবে দেখেন, আবার কেউ মনে করেন সে সময়কার বৈজ্ঞানিক প্রমাণ আজকের মানদণ্ডে সীমিত ছিল এবং সামাজিক-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটও সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করেছিল।
একইভাবে যৌন অভিমুখিতা পরিবর্তনের প্রচেষ্টা (Sexual Orientation Change Efforts) নিয়েও বিতর্ক রয়েছে। এ বিষয়ে প্রকাশিত গবেষণার মান, পদ্ধতি এবং ফলাফল নিয়ে সমর্থক ও সমালোচক—উভয় পক্ষই প্রশ্ন তুলেছেন। ফলে এ ক্ষেত্রেও চূড়ান্ত ভাষায় সিদ্ধান্ত দেওয়ার আগে গবেষণার মান ও সীমাবদ্ধতা বিবেচনা করা জরুরি।
সত্য অনুসন্ধানের প্রয়োজন
সমকামিতা নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে দুটি চরম অবস্থান এড়িয়ে চলা উচিত। একদিকে, সীমিত গবেষণাকে "চূড়ান্ত বৈজ্ঞানিক সত্য" হিসেবে উপস্থাপন করা যেমন সঠিক নয়, অন্যদিকে পর্যাপ্ত প্রমাণ ছাড়া সব গবেষণাকে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র বলে উড়িয়ে দেওয়াও গবেষণার নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
সমকামিতা কেন হয়? — বিজ্ঞান কী জানে, কী জানে না (দ্বিতীয় পর্ব)
১৯৭৩ সালের APA সিদ্ধান্ত: বিজ্ঞান, নাকি নীতিগত পরিবর্তন?
সমকামিতা নিয়ে আধুনিক বিতর্কের ইতিহাসে ১৯৭৩ সাল একটি গুরুত্বপূর্ণ বছর। ওই বছর American Psychiatric Association (APA) তাদের মানসিক রোগের তালিকা (DSM) থেকে সমকামিতাকে অপসারণ করে। বর্তমানে এই সিদ্ধান্তকে অনেকেই এমনভাবে উপস্থাপন করেন যেন সে সময় বিজ্ঞান চূড়ান্তভাবে প্রমাণ করে ফেলেছিল যে সমকামিতা সম্পূর্ণ স্বাভাবিক মানবিক বৈচিত্র্য। কিন্তু ঐতিহাসিক দলিল বিশ্লেষণ করলে বিষয়টি এতটা সরল নয়।
সিদ্ধান্তটি এমন এক সময়ে গৃহীত হয়, যখন সমকামিতা নিয়ে গবেষণা ছিল সীমিত, নমুনার আকার ছিল ছোট এবং দীর্ঘমেয়াদি জনসংখ্যাভিত্তিক গবেষণা প্রায় অনুপস্থিত। একই সঙ্গে পশ্চিমা বিশ্বে সমকামী অধিকার আন্দোলন দ্রুত শক্তিশালী হচ্ছিল এবং APA-এর সম্মেলনগুলোতেও এ নিয়ে তীব্র বিতর্ক ও প্রতিবাদ হয়েছিল। ফলে ইতিহাসবিদদের একটি অংশ মনে করেন, সিদ্ধান্তটি ছিল বৈজ্ঞানিক তথ্য, রোগের সংজ্ঞা নিয়ে দার্শনিক বিতর্ক এবং সমসাময়িক সামাজিক-রাজনৈতিক বাস্তবতার সম্মিলিত ফল।
অন্যদিকে, সিদ্ধান্তের সমর্থকেরা যুক্তি দেন যে সমকামিতাকে মানসিক রোগ হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ রাখার পক্ষেও পর্যাপ্ত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ ছিল না। অর্থাৎ বিতর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ছিল—"সমকামিতা স্বাভাবিক কি না" নয়, বরং "সমকামিতাকে মানসিক রোগ বলা বৈজ্ঞানিকভাবে ন্যায্য কি না"।
এই ইতিহাস থেকে অন্তত একটি শিক্ষা পাওয়া যায়—নীতিগত সিদ্ধান্ত এবং বৈজ্ঞানিক সিদ্ধান্ত সব সময় এক জিনিস নয়। কোনো নীতি পরিবর্তনের পেছনে বৈজ্ঞানিক তথ্যের পাশাপাশি সামাজিক, নৈতিক ও আইনি বিবেচনাও কাজ করতে পারে।
"গে-জিন" অনুসন্ধান: তিন দশকের গবেষণার ফল কী?
সমকামিতার জৈবিক ভিত্তি খুঁজতে বিজ্ঞানীরা দীর্ঘদিন ধরে জেনেটিক্স নিয়ে গবেষণা করেছেন। ১৯৯০-এর দশকে Xq28 নামের একটি ক্রোমোজোমীয় অঞ্চলের সঙ্গে পুরুষ সমকামিতার সম্ভাব্য সম্পর্কের কথা আলোচনায় আসে। গণমাধ্যমে এটি দ্রুত "গে-জিন" হিসেবে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।
কিন্তু পরবর্তী গবেষণাগুলো সেই ফল পুনরাবৃত্তি করতে ব্যর্থ হয়। বড় নমুনাভিত্তিক গবেষণায় Xq28-কে সমকামিতার নির্ভরযোগ্য কারণ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা যায়নি। পরে Genome-Wide Association Studies (GWAS)-এ লক্ষাধিক মানুষের জেনেটিক তথ্য বিশ্লেষণ করেও গবেষকেরা দেখেন, এমন কোনো একক জিন নেই যা মানুষের যৌন অভিমুখিতা নির্ধারণ করে।
বর্তমান গবেষণা বরং ইঙ্গিত করে যে, মানুষের অসংখ্য আচরণগত বৈশিষ্ট্যের মতো এখানেও বহু ক্ষুদ্র জেনেটিক উপাদান সামান্য প্রভাব ফেলতে পারে। কিন্তু সেই প্রভাব এতই সীমিত যে কেবল জেনেটিক তথ্য দেখে কারও যৌন অভিমুখিতা পূর্বাভাস দেওয়া সম্ভব নয়।
এ কারণেই আজ অধিকাংশ জেনেটিসিস্ট "gay gene" শব্দটি ব্যবহার করেন না।
যমজ গবেষণা: জিনের ভূমিকা কতটুকু?
জেনেটিক্সের ভূমিকা বোঝার জন্য অভিন্ন যমজ (identical twins) নিয়ে বহু গবেষণা হয়েছে। কারণ তাদের জিনগত গঠন প্রায় একই।
যদি সমকামিতা সম্পূর্ণ জিননির্ভর হতো, তাহলে একজন অভিন্ন যমজ সমকামী হলে অন্যজনেরও প্রায় সব ক্ষেত্রেই সমকামী হওয়ার কথা। বাস্তবে গবেষণায় তা দেখা যায়নি। বিভিন্ন গবেষণায় concordance rate ভিন্ন হলেও কোথাও এটি ১০০ শতাংশের কাছাকাছি নয়।
এই ফলাফল থেকে দুটি বিষয় বোঝা যায়।
প্রথমত, জিনের কিছু ভূমিকা থাকলেও সেটি একমাত্র ব্যাখ্যা নয়।
দ্বিতীয়ত, একই জিনগত গঠন থাকা সত্ত্বেও মানুষের যৌন অভিমুখিতা ভিন্ন হতে পারে। অর্থাৎ জিনের পাশাপাশি অন্যান্য জৈবিক, বিকাশগত কিংবা পরিবেশগত উপাদানও ভূমিকা রাখতে পারে।
তবে এখানেও সতর্কতা প্রয়োজন। যমজ গবেষণা থেকে সরাসরি "পরিবেশই প্রধান কারণ"—এ সিদ্ধান্তও টানা যায় না। কারণ যমজরা শুধু জিনই নয়, মাতৃগর্ভের পরিবেশ এবং পারিবারিক পরিবেশেরও বহু অংশ ভাগাভাগি করে। তাই এই গবেষণাগুলো জটিল, এবং তাদের ফল ব্যাখ্যা করার ক্ষেত্রেও সতর্কতা জরুরি।
বিজ্ঞান এখন কোথায় দাঁড়িয়ে?
গত তিন দশকের জেনেটিক গবেষণা থেকে অন্তত একটি বিষয় স্পষ্ট হয়েছে—এখন পর্যন্ত এমন কোনো নির্দিষ্ট জৈবিক কারণ শনাক্ত করা যায়নি, যা একাই সমকামিতাকে ব্যাখ্যা করতে পারে।
অতএব "সমকামিতা সম্পূর্ণ জিনগত"—এই দাবির যেমন শক্ত প্রমাণ নেই, তেমনি "জিনের কোনো ভূমিকা নেই"—এ দাবিও বর্তমান গবেষণা সমর্থন করে না।
বৈজ্ঞানিকভাবে সবচেয়ে সতর্ক উপসংহার হলো, যৌন অভিমুখিতা একটি জটিল মানবিক বৈশিষ্ট্য, যার পেছনে বিভিন্ন উপাদান ভিন্ন ভিন্ন মাত্রায় ভূমিকা রাখতে পারে। এই প্রভাবগুলোর প্রকৃতি ও মাত্রা নিয়ে গবেষণা এখনও চলমান।
মকামিতা কেন হয়? — বিজ্ঞান কী জানে, কী জানে না (তৃতীয় পর্ব)
মস্তিষ্ক, হরমোন ও ফেরোমোন: সমকামিতার জৈবিক ভিত্তি কি প্রমাণিত?
জেনেটিক গবেষণা যখন সমকামিতার একক কারণ শনাক্ত করতে ব্যর্থ হলো, তখন অনেক গবেষকের দৃষ্টি যায় মস্তিষ্ক, হরমোন এবং স্নায়ুবিজ্ঞানের দিকে। প্রশ্ন ছিল—সমকামী ও বিষমকামী মানুষের মস্তিষ্ক কি জন্মগতভাবেই আলাদা? অথবা কোনো বিশেষ হরমোন কি মানুষের যৌন অভিমুখিতা নির্ধারণ করে?
প্রায় তিন দশকের গবেষণার পরও এই প্রশ্নগুলোর কোনো চূড়ান্ত উত্তর পাওয়া যায়নি।
Simon LeVay এবং INAH3 গবেষণা
১৯৯১ সালে স্নায়ুবিজ্ঞানী Simon LeVay একটি গবেষণাপত্র প্রকাশ করেন, যেখানে তিনি দাবি করেন যে হাইপোথ্যালামাসের INAH3 নামক একটি অঞ্চলের গড় আকার সমকামী পুরুষদের ক্ষেত্রে বিষমকামী পুরুষদের তুলনায় ছোট এবং কিছু ক্ষেত্রে নারীদের কাছাকাছি।
গবেষণাটি বিশ্বজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। অনেকেই এটিকে "সমকামিতার জৈবিক প্রমাণ" হিসেবে প্রচার করেন।
কিন্তু পরবর্তী সময়ে গবেষণাটি নিয়ে বেশ কয়েকটি গুরুতর প্রশ্ন ওঠে।
প্রথমত, গবেষণার নমুনা ছিল খুবই ছোট।
দ্বিতীয়ত, অংশগ্রহণকারীদের অধিকাংশই AIDS-সম্পর্কিত জটিলতায় মারা গিয়েছিলেন। ফলে মৃত্যুর আগে দীর্ঘমেয়াদি অসুস্থতা কিংবা চিকিৎসার প্রভাব মস্তিষ্কের গঠনে কোনো পরিবর্তন এনেছিল কি না, তা নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব ছিল না।
তৃতীয়ত, গবেষণাটি কেবল দুটি ঘটনার মধ্যে একটি সম্পর্ক (correlation) দেখিয়েছিল; এটি কখনোই প্রমাণ করেনি যে INAH3-এর আকার সমকামিতার কারণ।
পরবর্তী গবেষণাগুলোও এ বিষয়ে একমত হতে পারেনি। কিছু গবেষণায় সীমিত সাদৃশ্য পাওয়া গেলেও অন্য গবেষণায় তা পুনরায় নিশ্চিত করা যায়নি। আজ পর্যন্ত INAH3-কে সমকামিতার নির্ভরযোগ্য জৈবিক চিহ্ন (biomarker) হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হয়নি।
মস্তিষ্কের পার্থক্য কি কারণ, নাকি ফল?
এখানে একটি মৌলিক বৈজ্ঞানিক প্রশ্ন রয়েছে।
ধরা যাক, কোনো গবেষণায় সমকামী ও বিষমকামী মানুষের মস্তিষ্কে গড়পড়তা কিছু পার্থক্য দেখা গেল। সেখান থেকে কি বলা যাবে যে এই পার্থক্যই সমকামিতার কারণ?
উত্তর হলো—না।
স্নায়ুবিজ্ঞানে বহুদিন ধরেই জানা গেছে যে মানুষের মস্তিষ্ক পরিবর্তনশীল (neuroplastic)। শিক্ষা, ভাষা, পেশা, অভ্যাস, দীর্ঘমেয়াদি অভিজ্ঞতা এমনকি বারবার অনুশীলিত আচরণও মস্তিষ্কের গঠন ও কার্যক্রমে পরিবর্তন আনতে পারে।
অতএব কোনো পার্থক্য দেখা গেলেই সেটিকে জন্মগত কারণ হিসেবে ধরে নেওয়া বৈজ্ঞানিকভাবে সঠিক নয়।
Ivanka Savic-এর ফেরোমোন গবেষণা
২০০০-এর দশকের শুরুতে Ivanka Savic এবং তাঁর সহকর্মীরা মানুষের তথাকথিত "sex pheromone" নিয়ে গবেষণা করেন।
তাদের গবেষণায় দাবি করা হয়, কিছু রাসায়নিক যৌগের প্রতি সমকামী পুরুষদের মস্তিষ্কের প্রতিক্রিয়া বিষমকামী নারীদের প্রতিক্রিয়ার সঙ্গে কিছু ক্ষেত্রে মিল রয়েছে।
এই ফলাফল সংবাদমাধ্যমে ব্যাপক প্রচার পায় এবং অনেকে এটিকে সমকামিতার জৈবিক ভিত্তির প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করেন।
কিন্তু পরবর্তী গবেষণায় কয়েকটি সীমাবদ্ধতা স্পষ্ট হয়।
প্রথমত, মানুষের ক্ষেত্রে প্রকৃত ফেরোমোন আদৌ আছে কি না, সে বিষয়েই এখনো বৈজ্ঞানিক ঐকমত্য নেই।
দ্বিতীয়ত, মস্তিষ্কের প্রতিক্রিয়া (brain activation) দেখানো মানেই কোনো ব্যক্তির যৌন অভিমুখিতার কারণ আবিষ্কার করা নয়।
তৃতীয়ত, বিভিন্ন গবেষণায় একই ফল ধারাবাহিকভাবে পুনরাবৃত্ত (replicate) করা যায়নি।
ফলে বর্তমানে Savic-এর গবেষণাকে একটি আকর্ষণীয় পর্যবেক্ষণ হিসেবে দেখা হলেও, সমকামিতার কারণ হিসেবে গ্রহণ করা হয় না।
হরমোন তত্ত্ব
আরেকটি জনপ্রিয় ধারণা হলো—ভ্রূণ অবস্থায় হরমোনের পরিবর্তনের কারণে মানুষের যৌন অভিমুখিতা নির্ধারিত হয়।
এ বিষয়েও বহু গবেষণা হয়েছে।
কিছু গবেষণায় আঙুলের দৈর্ঘ্যের অনুপাত (2D:4D ratio), জন্মক্রম (fraternal birth order), কিংবা prenatal androgen exposure-এর সঙ্গে দুর্বল সম্পর্কের কথা বলা হয়েছে।
কিন্তু এসব গবেষণার ফলাফলও সব গবেষণায় একরকম নয়।
বর্তমানে কোনো নির্দিষ্ট হরমোন, হরমোনের মাত্রা বা ভ্রূণকালীন পরিবর্তনকে সমকামিতার একক কারণ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা যায়নি।
বৈজ্ঞানিক সততার দাবি
মস্তিষ্ক, হরমোন ও ফেরোমোন নিয়ে গবেষণাগুলো থেকে একটি বিষয় স্পষ্ট হয়।
এগুলো সমকামিতার বিষয়ে কিছু আকর্ষণীয় পর্যবেক্ষণ প্রদান করেছে, কিন্তু কোনো গবেষণাই এখন পর্যন্ত এমন একটি জৈবিক প্রক্রিয়া শনাক্ত করতে পারেনি, যা নিশ্চিতভাবে ব্যাখ্যা করে কেন একজন ব্যক্তি সমকামী হন এবং অন্যজন হন না।
বিজ্ঞান এখনো অনুসন্ধানের পর্যায়ে রয়েছে।
অতএব "বিজ্ঞান ইতোমধ্যেই সমকামিতার জৈবিক কারণ প্রমাণ করেছে"—এ কথাটি যেমন বর্তমান গবেষণার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়, তেমনি "জৈবিক কোনো ভূমিকা একেবারেই নেই"—এ কথাও বর্তমান তথ্য দিয়ে নিশ্চিতভাবে বলা যায় না।
বৈজ্ঞানিকভাবে সবচেয়ে সংযত অবস্থান হলো—প্রমাণ যেখানে শেষ হয়েছে, সেখানেই সিদ্ধান্ত থামানো।
তথ্যসূত্র (Section–1)
Genetics, GWAS & Twin Studies
Bailey JM, Pillard RC. A genetic study of male sexual orientation. Archives of General Psychiatry. 1991;48(12):1089–1096.
Bailey JM, Pillard RC, Neale MC, Agyei Y. Heritable factors influence sexual orientation in women. Archives of General Psychiatry. 1993;50(3):217–223.
Bailey JM, Dunne MP, Martin NG. Genetic and environmental influences on sexual orientation and its correlates in an Australian twin sample. Journal of Personality and Social Psychology. 2000;78(3):524–536.
Hershberger SL. A twin registry study of male and female sexual orientation. Journal of Sex Research. 1997;34(3):212–222.
Kendler KS, Thornton LM, Gilman SE, Kessler RC. Sexual orientation in a U.S. national sample of twin and non-twin sibling pairs. American Journal of Psychiatry. 2000.
Pillard RC, Weinrich JD. Evidence of familial nature of male homosexuality. Archives of General Psychiatry. 1986;43(8):808–812.
Hamer DH, Hu S, Magnuson VL, Hu N, Pattatucci AML. A linkage between DNA markers on the X chromosome and male sexual orientation. Science. 1993;261(5119):321–327.
Hu S, Pattatucci AML, Patterson C, et al. Linkage between sexual orientation and chromosome Xq28 in males but not in females. Nature Genetics. 1995.
Rice G, Anderson C, Risch N, Ebers G. Male homosexuality: Absence of linkage to microsatellite markers at Xq28. Science. 1999;284(5414):665–667.
Mustanski BS, Dupree MG, Nievergelt CM, Bocklandt S, Schork NJ, Hamer DH. A genomewide scan of male sexual orientation. Human Genetics. 2005;116:272–278.
Sanders AR, Martin ER, Beecham GW, et al. Genome-wide scan demonstrates significant linkage for male sexual orientation. Psychological Medicine. 2015;45(7):1379–1388.
Ganna A, Verweij KJH, Nivard MG, et al. Large-scale GWAS reveals insights into the genetic architecture of same-sex sexual behavior. Science. 2019;365(6456):eaat7693.
Hamer D, Mustanski B, Sell R, Sanders SA, Garcia JR. Comment on “Large-scale GWAS reveals insights into the genetic architecture of same-sex sexual behavior”. Science. 2021.
Långström N, Rahman Q, Carlström E, Lichtenstein P. Genetic and environmental effects on same-sex sexual behavior: A population study of twins in Sweden. Archives of Sexual Behavior. 2010;39(1):75–80.
Rice WR, Friberg U, Gavrilets S. Homosexuality as a consequence of epigenetically canalized sexual development. The Quarterly Review of Biology. 2012;87(4):343–368.
Mustanski BS, Chivers ML, Bailey JM. A critical review of recent biological research on human sexual orientation. Annual Review of Sex Research. 2002;13:89–140.
Bailey JM, Vasey PL, Diamond LM, et al. Sexual orientation, controversy, and science. Psychological Science in the Public Interest. 2016;17(2):45–101.
Wójcik M. Homosexuality: Twin Studies. In: Encyclopedia of Behavioral Genetics. Springer Nature; 2024.
Evidence Summary
যেসব গবেষণা জেনেটিক ভূমিকার পক্ষে প্রমাণ উপস্থাপন করেছে
Hamer et al. (1993)
Hu et al. (1995)
Bailey & Pillard (1991)
Sanders et al. (2015)
যেসব গবেষণা পূর্ববর্তী ফল পুনরাবৃত্তি করতে পারেনি বা সীমাবদ্ধতা দেখিয়েছে
Rice et al. (1999)
Bailey et al. (2000)
Hershberger (1997)
Ganna et al. (2019)
বর্তমান বৈজ্ঞানিক মূল্যায়ন
কোনো একক "gay gene" শনাক্ত হয়নি।
যৌন অভিমুখিতার ক্ষেত্রে বহু ক্ষুদ্র জেনেটিক ভ্যারিয়েন্টের সীমিত সম্পর্ক থাকতে পারে।
জেনেটিক প্রভাব থাকলেও তা ব্যক্তিগত পর্যায়ে যৌন অভিমুখিতা নির্ভরযোগ্যভাবে পূর্বাভাস দেওয়ার জন্য যথেষ্ট নয়।
বর্তমান গবেষণা যৌন অভিমুখিতাকে একটি জটিল (complex/polygenic) বৈশিষ্ট্য হিসেবে বিবেচনা করে, তবে এর সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো নিশ্চিতভাবে নির্ধারিত হয়নি।
তথ্যসূত্র (Section–2)
Brain, Hormones, Pheromones & Prenatal Factors
A. Brain Structure & Neuroanatomy
LeVay S. A difference in hypothalamic structure between heterosexual and homosexual men. Science. 1991;253(5023):1034–1037.
Byne W, Tobet S, Mattiace LA, Lasco MS, Kemether E, Edgar MA, et al. The interstitial nuclei of the human anterior hypothalamus: An investigation of variation with sex, sexual orientation, and HIV status. Hormones and Behavior. 2001;40(2):86–92.
Swaab DF, Hofman MA. An enlarged suprachiasmatic nucleus in homosexual men. Brain Research. 1990;537:141–148.
Allen LS, Gorski RA. Sexual orientation and the size of the anterior commissure in the human brain. Proceedings of the National Academy of Sciences (PNAS). 1992;89:7199–7202.
Savic I, Lindström P. PET and MRI studies of sexual orientation and brain function. Proceedings of the National Academy of Sciences (PNAS). (পরবর্তী নিউরোইমেজিং গবেষণার ভিত্তি হিসেবে বহুল উদ্ধৃত।)
B. Pheromones
Savic I, Berglund H, Lindström P. Brain response to putative pheromones in homosexual men. Proceedings of the National Academy of Sciences (PNAS). 2005;102:7356–7361.
Berglund H, Lindström P, Savic I. Brain response to putative pheromones in lesbian women. Proceedings of the National Academy of Sciences (PNAS). 2006;103:8269–8274.
Lundström JN, Olsson MJ. Subthreshold amounts of social odorant affect mood, but evidence for human pheromones remains limited. Psychological Science. (মানুষের "pheromone" ধারণা নিয়ে সমালোচনামূলক আলোচনা।)
C. Prenatal Hormones
Breedlove SM. Prenatal influences on human sexual orientation: Expectations versus data. Archives of Sexual Behavior. 2017. (বিস্তৃত পর্যালোচনা)
Swift-Gallant A, Aung T, Rosenfield K, Dawood K, Puts DA. Organizational effects of gonadal hormones on human sexual orientation. Adaptive Human Behavior and Physiology. 2023;9(4):344–370.
Tasos E. To What Extent are Prenatal Androgens Involved in the Development of Male Homosexuality in Humans? Journal of Homosexuality. 2021;69(4).
Reinisch JM, Mortensen EL, Sanders SA. Prenatal Exposure to Progesterone Affects Sexual Orientation in Humans. Archives of Sexual Behavior. 2017;46(5):1239–1249.
Meyer-Bahlburg HFL, Ehrhardt AA. Prenatal estrogens and the development of homosexual orientation: A critical review. (Review article).
D. Congenital Adrenal Hyperplasia (CAH)
Hines M. Prenatal endocrine influences on sexual orientation and sexually differentiated childhood behavior. Frontiers in Neuroendocrinology. 2011.
Meyer-Bahlburg HFL, Dolezal C, Baker SW, et al. Sexual orientation in women with classical congenital adrenal hyperplasia. Archives of Sexual Behavior.
Berenbaum SA, Bailey JM. Effects of early androgens on sex-typed activities and sexual orientation in females with congenital adrenal hyperplasia. Developmental Psychology.
E. Fraternal Birth Order
Blanchard R. Fraternal birth order and the maternal immune hypothesis of male homosexuality. Hormones and Behavior. 2001.
Bogaert AF. Biological versus nonbiological older brothers and men's sexual orientation. Proceedings of the National Academy of Sciences (PNAS). 2006.
Bogaert AF. The fraternal birth order effect and its relationship to sexual orientation: A review. Journal of Biosocial Science.
F. 2D:4D Finger Ratio
Grimbos T, Dawood K, Burriss RP, Zucker KJ, Puts DA. Sexual orientation and the second-to-fourth digit ratio: A meta-analysis. Behavioral Neuroscience. 2010.
Voracek M, Manning JT, Ponocny I. Digit ratio (2D:4D) and sexual orientation: Meta-analysis and critique. Personality and Individual Differences.
G. Major Reviews
Mustanski BS, Chivers ML, Bailey JM. A critical review of recent biological research on human sexual orientation. Annual Review of Sex Research. 2002.
Alagha M, et al. Biological, genetic, neurological and environmental influences on homosexuality: A review. Frontiers in Behavioral Neuroscience. 2025.
Breedlove SM. Biological research on sexual orientation: Current evidence and future directions. (Review article).
Evidence Summary
Brain Structure
পক্ষে উদ্ধৃত গবেষণা: LeVay (1991), Swaab & Hofman (1990), Savic et al.
সীমাবদ্ধতা / সমালোচনা: Byne et al. (2001), ছোট sample size, HIV/AIDS confounding, Correlation ≠ Causation.
Pheromones
পক্ষে: Savic et al. (2005), Berglund et al. (2006).
সীমাবদ্ধতা: মানুষের ক্ষেত্রে কার্যকর "pheromone" আদৌ বিদ্যমান কি না, সে বিষয়ে ঐকমত্য নেই। ফল পুনরাবৃত্তি (replication) সীমিত। Brain activation দেখা গেলেও তা কারণ (causation) প্রমাণ করে না।
Prenatal Hormones
পক্ষে: Breedlove (2017), Swift-Gallant et al. (2023), Tasos (2021).
সীমাবদ্ধতা: অধিকাংশ গবেষণা পরোক্ষ সূচক (2D:4D, CAH, জন্মক্রম ইত্যাদি) ব্যবহার করে। মানুষের ওপর নিয়ন্ত্রিত পরীক্ষামূলক গবেষণা নৈতিকভাবে সম্ভব নয়। প্রাপ্ত ফল সব গবেষণায় একরকম নয় এবং অনেক ক্ষেত্রেই ব্যাখ্যা নিয়ে মতভেদ রয়েছে।
বর্তমান বৈজ্ঞানিক মূল্যায়ন
বর্তমান গবেষণা মস্তিষ্ক, ভ্রূণকালীন হরমোন ও স্নায়ুবিক বিকাশের সম্ভাব্য ভূমিকা নিয়ে বিভিন্ন সম্পর্ক (associations) উপস্থাপন করেছে। তবে এগুলোর কোনোটিই এককভাবে মানুষের যৌন অভিমুখিতার কারণ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত নয়। গবেষণা এখনো চলমান এবং ফলাফল অনেক ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ, আংশিক বা পরস্পরবিরোধী।
তথ্যসূত্র (Section–3)
DSM, APA History, SOCE, Ethics & Philosophy of Science
A. History of DSM and Psychiatry
Bayer R. Homosexuality and American Psychiatry: The Politics of Diagnosis. Princeton University Press; 1987.
Drescher J. Out of DSM: Depathologizing Homosexuality. Behavioral Sciences. 2015;5(4):565–575.
Spitzer RL. The diagnostic status of homosexuality in DSM-III: A reformulation of the issues. American Journal of Psychiatry. 1981;138(2):210–215.
Bayer R, Spitzer RL. Edited correspondence on the status of homosexuality in DSM-III. Journal of the History of the Behavioral Sciences. 1982.
Drescher J. Queer diagnoses: Parallels and contrasts in the history of homosexuality, gender variance, and the DSM. Archives of Sexual Behavior. 2010;39:427–460.
Hooker E. The adjustment of the male overt homosexual. Journal of Projective Techniques. 1957;21:18–31.
B. Sexual Orientation Change Efforts (SOCE)
Spitzer RL. Can some gay men and lesbians change their sexual orientation? 200 participants reporting a change from homosexual to heterosexual orientation. Archives of Sexual Behavior. 2003;32(5):403–417.
Spitzer RL. Spitzer reassesses his 2003 study of reparative therapy of homosexuality. Archives of Sexual Behavior. 2012;41(4):757.
Jones SL, Yarhouse MA. Ex-Gays? A Longitudinal Study of Religiously Mediated Change in Sexual Orientation. InterVarsity Press; 2007.
Beckstead AL. Can we change sexual orientation? Archives of Sexual Behavior. 2012.
Santero PL, Whitehead NE, Ballesteros D, et al. Effects of sexual orientation change efforts among current or former sexual minority adults: A systematic review. PLOS ONE. 2021.
American Psychological Association. Report of the Task Force on Appropriate Therapeutic Responses to Sexual Orientation. APA; 2009. (Policy report; peer-reviewed journal article নয়, তবে বিষয়টির ইতিহাসে অত্যন্ত প্রভাবশালী নথি।)
C. History, Sociology & Ethics of Sexual Orientation Research
Murphy TF. Gay Science: The Ethics of Sexual Orientation Research. Columbia University Press; 1997.
Drescher J. Can sexual orientation be changed? Journal of Gay & Lesbian Mental Health. 2015.
Waidzunas TJ. Social movements and hierarchies of evidence in sexual orientation research. History of the Human Sciences. 2010.
Anderson JR. The legacy of medicalising homosexuality: Historical and ethical perspectives. Journal of Bioethical Inquiry. 2015.
D. Philosophy of Science & Research Quality
Ioannidis JPA. Why most published research findings are false. PLoS Medicine. 2005;2(8).
Ioannidis JPA. Meta-research: Why research on research matters. PLoS Biology. 2018;16(3).
Nosek BA, Alter G, Banks GC, et al. Promoting an open research culture. Science. 2015;348(6242):1422–1425.
Nissen SB, Magidson T, Gross K, Bergstrom CT. Publication bias and the canonization of false facts. eLife. 2016. (প্রথমে preprint হিসেবে প্রকাশিত; পরে peer-reviewed সংস্করণ প্রকাশিত হয়।)
Evidence Summary
DSM (1973)
ঐতিহাসিক বিশ্লেষণের প্রধান সূত্র: Bayer (1987), Drescher (2015), Spitzer (1981).
গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ: DSM থেকে সমকামিতা অপসারণ একটি চিকিৎসাবিষয়ক শ্রেণিবিন্যাসের পরিবর্তন ছিল। ঐতিহাসিক বিশ্লেষণে বৈজ্ঞানিক বিতর্ক, পেশাগত মতভেদ এবং সামাজিক আন্দোলন—সবগুলোর ভূমিকা আলোচিত হয়েছে।
SOCE
পরিবর্তনের সম্ভাবনা নিয়ে প্রকাশিত গবেষণা: Spitzer (2003), Jones & Yarhouse (2007).
পদ্ধতিগত সমালোচনা ও পরবর্তী আলোচনা: Spitzer (2012), Beckstead (2012), Santero et al. (2021).
বর্তমান অবস্থা: SOCE নিয়ে গবেষণার মান, নমুনা নির্বাচন এবং ফল ব্যাখ্যা নিয়ে উল্লেখযোগ্য মতভেদ রয়েছে। নীতিগত সুপারিশ এবং কার্যকারিতা-সংক্রান্ত প্রমাণ—এই দুটি বিষয় আলাদা করে মূল্যায়ন করা উচিত।
Philosophy of Science
প্রধান শিক্ষা: Publication bias, replication crisis এবং selective reporting—এসব সমস্যা শুধু যৌন অভিমুখিতা গবেষণায় নয়, সমগ্র বায়োমেডিকেল গবেষণাতেই আলোচিত।
কোনো বৈজ্ঞানিক দাবির মূল্যায়নে গবেষণার গুণমান, পুনরাবৃত্তিযোগ্যতা এবং প্রমাণের সামগ্রিক ওজন বিবেচনা করা উচিত; একটি মাত্র গবেষণার ওপর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করা উচিত নয়।
মন্তব্য