বিবিধ বিবিধ

তাফসিরের উপর ইসরাইলিয়াতের প্রভাব

বিষয় : তাফসিরের উপর ইসরাইলিয়াতের প্রভাব 

লেখক : সামিউল হাসান তবিব আল-ইনফিরাদী


ইসলামের ধ্রুপদী যুগসমূহে, মুসলিম শাসনাধীন অঞ্চলগুলিতে বসবাসরত অমুসলিম আব্রাহামিকদের মধ্য থেকে যেসব বর্ণনা মুসলিমদের মাঝে অনুপ্রবেশ করাপূর্বক প্রচলিত হয়েছিল, সেসব বর্ণনাকে একত্রে "ইসরাইলিয়াত" বলে অভিহিত করা হয়।

ইসলামে ইসরাইলিয়াতের বিধান কী তা মুহাম্মাদ ﷺ নিজেই খুবই স্পষ্ট করে দিয়ে গিয়েছেন। ইসরাইলিয়াত সম্পর্কে মুহাম্মাদ ﷺ বলেছেন যে : _[1]

"وحدثوا عن بني إسرائيل ولا حرج" و "لا تصدقوا أهل الكتاب، ولا تكذبوهم"

অর্থ : "তোমরা বনু-ইসরাইল হতে বর্ণনা করো, এতে কোনো সমস্যা নেই" এবং "তোমরা কিতাবধারীদের কথাকে সত্য মনে করবে না এবং মিথ্যাও মনে করবে না"।

[1] সহিহুল বুখারী (আস-সুলত্বনিয়াহ, 4/170 ও 9/111)

কোরআনের তাফসিরচর্চার ক্ষেত্রে ইসরাইলিয়াতের প্রভাব অতিগভীর।

মুহাম্মাদ ﷺ এর ইন্তিকালের পর, সাহাবীদের যুগে সাহাবীদেরই হাত ধরে কোরআনের তাফসিরে ইসরাইলিয়াতের সাহায্য নেওয়া আরম্ভ হয়। সর্বশ্রেষ্ঠ মুফাসসির আব্দুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রা) এর সহিত ইসরাইলিয়াতের সম্পৃক্ততার বিষয়টি সুপ্রসিদ্ধ। কিন্তু, তাফসিরে ইসরাইলিয়াতকে ব্যবহারকরণের বেলায় সাহাবীরা ছিলেন যথেষ্ট মূলনীতি-সচেতন, অর্থাৎ তাঁরা ইসরাইলিয়াতকে সত্য-মিথ্যা মনে করা হতে বিরত থেকে নিছক "সম্ভাব্য" ব্যাখ্যা হিসেবে দেখতেন এবং কেবল বর্ণনা করতেন।

সাহাবীদের পরবর্তী যুগগুলোতে, অর্থাৎ তাবেঈদের যুগে এবং তাবে-তাবেঈদের যুগে এবং তাবে-তবেঈদের পরবর্তী যুগগুলিতে, কোরআনের তাফসিরে ইসরাইলিয়াতের ব্যবহার অতিমাত্রায় এবং চরমভাবে বৃদ্ধি পায়। অপরদিকে, অতীতে সাহাবীদের যুগে সাহাবীদের মধ্যে উক্ত ক্ষেত্রে যে মুলনীতি-সচেতনতা বিরাজমান ছিল, সাহাবীদের পরবর্তী যুগসমূহে আগত মুফাসসিরদের মাঝে বিভিন্ন কারণে সে মূলনীতি-সচেতনতার ছিল ভীষণ অভাব। ফলে, ইসরাইলিয়াতের উপর সরাসরিভাবে নির্ভর করে কোরআন কে ব্যাখ্যাকরণ পরিণত হয় একটি সাধারণ প্রচলনে।

বেশিরভাগ তাফসিরগ্রন্থেই ইসরাইলিয়াত প্রত্যক্ষভাবে বা পরোক্ষভাবে কোনো না কোনো রূপে উপস্থিত। তাফসিরশাস্ত্র সংক্রান্ত প্রায় প্রতিটি গ্রন্থেই, বিশেষ করে তাফসিরের স্বরূপ নিয়ে রচিত গ্রন্থাবলিতে, তাফসিরের উপর ইসরাইলিয়াতের প্রভাবের বিষয়টি অন্ততপক্ষে অতিসামান্য হলেও আলোচিত হয়েছে।

"তাফসিরের উপর ইসরাইলিয়াতের প্রভাব" এই বিষয়টিকে বিশেষভাবে সুনির্দিষ্টভাবে কেন্দ্র করে যথেষ্ট বড় আকৃতির একাধিক স্বতন্ত্র পৃথক গ্রন্থও রচিত হয়েছে।

মন্তব্য

  • এখনো কোনো মন্তব্য নেই